রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে আবাসিক ভবনে আগুনের ঘটনায় ৬ জন নিহত হলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ‘অবহেলা’র অভিযোগ থাকলেও তাকে আনা হয়নি জিজ্ঞাসাবাদের আওতায়। ঘটনার পর তিনি গাঢাকা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বলছে, এখন পর্যন্ত মামলার আবেদন করেনি ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ। তাদের আবেদনের অপেক্ষায় আইনগত সব প্রক্রিয়া ঠিক করে রেখেছেন তারা। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মো. রফিকুল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ভিকটিমের পরিবার থেকে যদি আবেদন নিয়ে আসে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য আইনগত বিষয়গুলো আমরা প্রসেস করে রেখেছি। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে যতগুলো তথ্য সামনে এসেছে, সব আমলে নিয়েছি।
অপমৃত্যু বা অবহেলার মামলা হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মামলা হবে কি না তা ফায়ার সার্ভিসের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে। এর আগে শুক্রবার সকালে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ৬ জনের করুণ মৃত্যু হয়। ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে সেখানে থাকা ভবন মালিক ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে বের হয়ে গেলেও পঞ্চম ও ষষ্ঠতলায় থাকা ৬ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অনেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। শনিবার বিকালে সরেজমিন দেখা যায়, ঘটনার দ্বিতীয় দিনেও ভবনের সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। ভেতরে অবস্থান করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফ্ল্যাটের বেডরুম, ড্রইং-ডাইনিং, রান্নাঘরসহ ব্যবহার সামগ্রী ও আসবাবপত্র কিছুই নেই। এসব রুম থেকে বের হচ্ছিল পোড়া ও ধোঁয়ার গন্ধ।
এদিকে ঘটনার পর থেকে গাঢাকা দিয়েছেন বাড়ির মালিক ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, মালিকের ‘অবহেলা’র কারণে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে ফ্ল্যাটের ছাদের গেট নিয়মিত বন্ধ রাখায় ক্ষুব্ধ তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভাড়াটিয়া যুগান্তরকে বলেন, আগুনের ঘটনায় মালিকের পরিবারের কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ আগুন লাগার পর তারা নিরাপদে নিচে নেমে গেছেন। কিন্তু আমরা সেই সুযোগ পাইনি। ভেবেছিলাম আজ আমাদের নিশ্চিত মৃত্যু। এ ঘটনায় অবশ্যই মালিকের অবহেলা রয়েছে।
মন্তব্য করুন