নিজস্ব প্রতিবেদক,
লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আধারমানিক এলাকায় নির্মানাধীন ব্রীজ ঘেঁষে উত্তোলিত বালু জব্দ করেন উপজেলা প্রশাসন, সেই জব্দ কৃত বালু প্রশাসনের দেওয়া লাল পতাকা সরিয়ে গোপনে বিক্রির অভিযোগ উটেছে স্থানীয় কিছু দূর্বৃত্তের বিরুদ্ধে।
লোহাগাড়া আধারমানিক ও বান্দরবানকে সংযুক্তকারী এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটির নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিনের বিলম্বের পর শুরু হলেও, নির্দিষ্ট মেয়াদে শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাইড ম্যানেজারের সাথে যোগসাজশে স্থানীয় বাসিন্দা জব্বর ও জামাল নামের দুই ব্যক্তির একটি সিন্ডিকেট ব্রীজের নাম ভাঙিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ও বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে, এটি আইনের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা
সরজমিনে দেখা গেছে, নবনির্মিত ব্রীজটির গা ঘেঁষে মাত্র ৩০ ফুটের মধ্যে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর তীর ঘেঁষে বালি উত্তোলনের কারণে ব্রীজের পিলারের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এভাবে নির্বিচারে বালি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে, ব্রীজটি উদ্বোধনের আগেই অল্পদিনের মধ্যে ধসে পড়ার তীব্র আশংকা রয়েছে।
অবৈধ বালি উত্তোলনের খবর পেয়ে লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন স্পটে পরিদর্শন করেন এবং উত্তোলনকৃত বালির স্তূপ জব্দ করেন। পরবর্তীতে পদুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা সরজমিনে গিয়ে জব্দকৃত বালির উপরে লাল পতাকা স্থাপন করে কড়া সর্তকতা জারি করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে প্রশাসনের এই কঠোর নির্দেশের সপ্তাহ না পেরোতেই, গতকাল ১২ আগষ্ট (বুধবার) রাতের আঁধারে ওই প্রভাবশালী চক্রটি লাল পতাকা সরিয়ে জব্দকৃত বালি অবৈধভাবে বিক্রি করে দিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ব্রীজের সাইড ম্যানেজার, জব্বর ও জামালের নেতৃত্বেই এই অপকর্ম সম্পন্ন হয়েছে।
প্রশাসনের সর্তকতা অমান্য করে এবং জাতীয় সম্পদ ব্রীজকে হুমকির মুখে ফেলে এমন বেপরোয়া কাজ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। এখন দেখার বিষয় স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা ভূমি অফিস এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং এই ব্রীজটিকে রক্ষা করতে সক্ষম হয় কিনা
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন মুঠোফোনে জানান, অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়েছিল, পতাকা সরিয়ে বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনগত বেবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন