নুষ জীবনে সফলতা খোঁজে—কেউ সম্পদে, কেউ ক্ষমতায়, কেউ খ্যাতিতে। অথচ মানুষের প্রকৃত সফলতা কেবল একটি— আখিরাতে মুক্তি ও জান্নাত লাভ। এই মুক্তির পথ কী? কী করলে মানুষ জান্নাতের কাছাকাছি যায়, আর কোন ভুলে জাহান্নামের অতল গহ্বরে পতিত হয়?
একটি হাদিসে এই চিরন্তন প্রশ্নের স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.); যা একজন মুমিনের জীবনের দিকনির্দেশক নীতিমালা হয়ে উঠতে পারে।
মূল হাদিস: জান্নাত ও জাহান্নামের পথনির্দেশ
سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ الْجَنَّةَ، فَقَالَ: تَقْوَى اللَّهِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ. وَسُئِلَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ النَّارَ، فَقَالَ: الْفَمُ وَالْفَرْجُ.
রাসুলুল্লাহকে (সা.) প্রশ্ন করা হলো, কোন কর্মটি সবচেয়ে বেশি মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি বললেন— আল্লাহভীতি (তাকওয়া) ও উত্তম চরিত্র।
আবার তাকে প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে? তিনি বললেন— মুখ (জিহ্বা) ও লজ্জাস্থান।’ (তিরমিজি ২০০৪)
জান্নাতের চাবিকাঠি: আল্লাহভীতি (তাকওয়া)
তাকওয়া মানে শুধু ভয় নয়— বরং আল্লাহর উপস্থিতি সর্বদা অনুভব করা, গোপনে ও প্রকাশ্যে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। তাকওয়াবান ব্যক্তি অন্যায় করতে ভয় পায়, কারণ সে জানে—আল্লাহ দেখছেন। কুরআনের ঘোষণা—
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।’ (সুরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১৩)
উত্তম চরিত্র: নবুয়তের উদ্দেশ্য
রাসুলুল্লাহ (সা.) তার আগমনের মূল উদ্দেশ্যই ঘোষণা করেছেন চরিত্র গঠনের মাধ্যমে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ صَالِحَ الأَخْلَاقِ
‘আমি প্রেরিত হয়েছি উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দানের জন্য।’ (মুসনাদে আহমাদ ৮৯৩৯)
মন্তব্য করুন