মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন’ বলে দাবি করেছেন তিনি। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া বা চীন যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায় তবে ডেনমার্কের কিছুই করার থাকবে না। কিন্তু আমাদের পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব। গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলার ঘটনাতেই আপনারা তার প্রমাণ পেয়েছেন।
দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি উড়িয়ে দেননি তিনি। পাল্টা জবাবে গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন করা হয়। যেসব দেশ সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে তাদের মধ্যে রয়েছে জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাজ্য। খবর বিবিসির।
এছাড়া, ফ্রান্সের একটি ছোট সামরিক দল গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুউকে পৌঁছেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো বলেন, প্রাথমিক এই সামরিক দলটিকে শীঘ্রই ‘স্থল আকাশ এবং নৌ-সম্পদ’ দিয়ে আরও শক্তিশালী করা হবে। ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া তার নববর্ষের ভাষণে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ইউরোপীয়দের একটি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে কারণ এ ভূখণ্ডটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি আমাদের ন্যাটোর অন্যতম মিত্র।
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ হবে একটি ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ হুঁশিয়ারি দিয়ে পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, পোল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সামরিক মোতায়েনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। সেখানে মার্কিন কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ হবে একটি ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’।
তিনি আরও বলেন, ন্যাটোর এক সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক অন্য সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘাত বা তা দখলের চেষ্টা হবে আমাদের চেনা বর্তমান বিশ্বের অবসান। যে বিশ্ব বহু বছর ধরে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।
ফ্রান্সের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক অলিভিয়ের পোইভ্র ডি’আরভোর এই অভিযানটিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংকেত দেখিয়ে বলেন, এটি প্রথম মহড়া… আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে দেখিয়ে দেব যে ন্যাটো (গ্রিনল্যান্ডে) উপস্থিত আছে।
পোইভ্র ডি’আরভোর জানান, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটন সফরের কয়েক ঘণ্টা পর প্রাথমিকভাবে ফ্রান্সের ১৫ জন প্রতিনিধি সেখানে পৌঁছেছেন।
বৈঠকের পর ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোকে রাসমুসেন বলেন, আলোচনা গঠনমূলক হলেও দুই পক্ষের মধ্যে একটি ‘মৌলিক মতপার্থক্য’ রয়ে গেছে। গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার সমালোচনাও করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় দেশগুলোর অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন এ আর্কটিক ভূখণ্ড নিয়ে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে।
এদিকে বেলজিয়ামে রুশ দূতাবাস আর্কটিক অঞ্চলে যা ঘটছে তা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। তারা ন্যাটোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছে, ‘মস্কো এবং বেইজিং থেকে ক্রমবর্ধমান হুমকির মিথ্যা অজুহাতে’ তারা সেখানে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে।
তবে, ইউরোপীয় ন্যাটোর এই মোতায়েনটি ‘অপারেশন আর্কটিক এনডুরেন্স’ নামক ডেনমার্কের নেতৃত্বাধীন যৌথ মহড়ার অংশ হিসেবে মাত্র কয়েক ডজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত। যদিও এটি প্রতীকীভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তবে তারা কতদিন সেখানে অবস্থান করবে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
সেনা মোতায়েনের ব্যপারে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বলেন, গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা পুরো ন্যাটো জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মন্তব্য করুন