নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল, পরিবারের ওপর বর্বর হামলা এবং থানা মামলায় সৌদিআরবে অবস্থানরত প্রবাসীকে প্রধান আসামি করে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি মহলের প্রভাবে পুলিশ ঘটনার সঠিক তদন্ত না করেই মামলা নিয়েছে এবং যাকে প্রধান আসামী করা হয়েছে তিনি বিগত তিন বছর যাবৎ সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ১৯৮৮ সালের ক্রয়কৃত পৈতৃক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় শাহ নেওয়াজ নেতৃত্বাধীন একটি চক্র। এ নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের শালিস ও সার্ভেয়ারের পরিমাপে জমি আবুল মখচুছ এর অনুকূলে থাকার প্রতিবেদন দিলেও তা অমান্য করে চলেছে অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী মাইশা হাবিবা জানান, গত ২৬ জুন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় নারীদের ওপর শ্লীলতাহানি ও ঘরের নির্মাণাধীন টিনের ঘেরা ভেঙে ফেলারও অভিযোগ করেন তিনি। হামলায় আহতদের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ঘটনার পর লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তা আমলে না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করে এবং অসুস্থ পিতাকে আটক করেন।
মামলার নথিতে দেখা যায়, ৩২ নম্বর এই মামলায় ১নং আসামি করা হয়েছে জিয়াউল হক নামের এক ব্যক্তিকে, যিনি গত ২২ অক্টোবর ২০২৩ সাল থেকেই সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও কীভাবে একজন প্রবাসী মামলার প্রধান আসামি হন—তা নিয়ে লোহাগাড়া থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
উদ্দেশ্যমূলক ও বানোয়াট এই মামলা প্রত্যাহার, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে— তানজির মাহমুদ, মুহাম্মদ জুয়েল, সফিকুর রহমান, শাহানা আক্তার, আয়েশা বেগম, তামিমুন্নেছা, আমেনা বেগম, মুহাম্মদ ওয়ারেচ, নাজমুল হক, নুর আয়েশা, রেহেনা বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন