নিজস্ব প্রতিবেদক:
বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জানমালের ক্ষতিপূরণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বন অধিদপ্তরের সুপারিশ এবং বিশেষ কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি চকরিয়া ও লোহাগাড়া এলাকার দুই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত মানুষের জানমালের ক্ষতিপূরণ যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত কমিটি’র সুপারিশ এবং প্রধান বন সংরক্ষক (বন অধিদপ্তর, ঢাকা)-এর স্মারক ও নির্দেশনার আলোকে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। বন সংরক্ষক, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল, ঢাকা এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির যৌথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) সকালে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যলয়ে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ডাকঘরের অন্তর্গত করমমুহরি পাড়া (০৮ নং ওয়ার্ড)-এর বাসিন্দা জনাব গিয়াস উদ্দিন বন্যহাতির দ্বারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনি মো: বজলুর রহমান এর পুত্র। বন্যহাতির আক্রমণে তাঁর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করে বন অধিদপ্তর থেকে ৪৫,০০০/- (পঁয়তাল্লিশ হাজার) টাকা ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকার কুলপাগলী পাড়ার বাসিন্দা জনাব মো: আব্দুল কাদের বন্যহাতির দ্বারা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন। তিনি এজাহার মিয়ার পুত্র। তাঁর ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে বন অধিদপ্তর থেকে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবেশবাদীরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, লোকালয়ে বন্যহাতির আগমন এবং মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেমন কিছুটা স্বস্তি পাবে, তেমনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক মনোভাবও হ্রাস পাবে।
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, বন্যপ্রাণীর সাথে মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতি বছরই এই ধরণের আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ভবিষ্যতেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন