বাঁশখালি প্রতিনিধি:
বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের জারি করা ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।
অভিযানে অবৈধ মাছ ধরার কোনো চক্র আটক না হলেও নিষিদ্ধ সময়ে মাছ সংরক্ষণে বরফ সরবরাহের অভিযোগে একটি বরফ কারখানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি বরফ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) দিনব্যাপী পরিচালিত এ মোবাইল কোর্ট অভিযানে অংশ নেয় বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সমন্বিত দল। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন জলকদর খালের মোহনা ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছের নিরাপদ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ও লঙ্ঘনের অভিযোগ যাচাই করতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে সাগরে অবৈধ মাছ আহরণে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও জলকদর খালের তীরবর্তী একাধিক বরফ উৎপাদন কারখানায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ফাঁড়ির মুখ শেখেরখীল এলাকার মালেক শাহ্ আইস ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যের প্রমাণ পাওয়া যায়।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, কারখানাটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং নির্ধারিত মানের পানি ব্যবহার না করে বরফ উৎপাদন করছিল। এছাড়া উৎপাদিত বরফ নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে আহরিত সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণে সরবরাহ করা হচ্ছিল বলেও প্রমাণ মেলে। অভিযুক্ত মালিকপক্ষ বিষয়টি স্বীকার করলে মালেক শাহ্ আইস ফ্যাক্টরিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়।
এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তায় অভিযুক্ত বরফ কারখানাসহ আশপাশের আরও কয়েকটি বরফ উৎপাদন কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, যাতে নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা না যায়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিনের প্রসিকিউশনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ওমর সানী আকন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারের আরোপিত ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ
মন্তব্য করুন