নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ এক দশক ধরে অবাধে ইয়াবা ও গাঁজার বাণিজ্য চালিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের আধারমানিক এলাকার নুরুল কবির (৪৫)। শুধু নিজেই নন, এই অপরাধ সাম্রাজ্যে তার সঙ্গে সমানভাবে সক্রিয় রয়েছেন তার স্ত্রীও। মাদকের এই ভয়াবহ থাবায় এলাকার ছাত্র ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়লেও তার কাছে থাকা দেশী-বিদেশী ভারী অস্ত্রের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আউয়াল পাড়া এলাকার মৃত নুর আহমদ ও জরিমন খাতুনের ছেলে নুরুল কবির দীর্ঘ ১০ বছর ধরে গাঁজা ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পাশের চরম্বা ইউনিয়নের ওয়াহিদের পাড়া এলাকার বাসিন্দা আবছারের কাছ থেকে মূল মাদকের চালান ক্রয় করেন তিনি। এরপর স্ত্রীসহ গড়ে তোলে মাদক সম্রাজ্য, সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের কাছে পাইকারী ও খুচরা মূল্যে এসব মাদক বিক্রি করেন। প্রতি পিস ইয়াবা বিক্রি হয় ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নুরুল কবির পদুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্কুল পড়ুয়া ছাত্র, যুবক, কর্মজীবী পুরুষ এমনকি বৃদ্ধদের কাছেও অবাধে মাদক বিক্রি করছেন। এই মাদকের ছোবলে পুরো এলাকায় চোর-ডাকাতের উপদ্রব বেড়ে গেছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে পারিবারিক নির্যাতন ও চরম অশান্তি।
একসময়ের অতি সাধারণ যুবক বিগত ১০ বছরে মাদক ব্যবসা করে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন নুরুল কবির। আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া এই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এর আগেও অন্তত ২টি মাদক মামলা রয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার কাছে দেশীয় তৈরি ভারী আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় ভয়ে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ কোনো প্রতিবাদ বা মুখ খোলার সাহস পান না।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। মাদকের সাথে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নুরুল কবিরের বিষয়টিও তদন্ত করে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, অতি দ্রুত এই সশস্ত্র মাদক ব্যবসায়ী নুরুল কবির ও তার চক্রকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মন্তব্য করুন