হাটহাজারী সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নন্দীরহাট এলাকায় মো. জুয়েল প্রকাশ এহাইত্তাকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক বেচাকেনা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার সহযোগীদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার মানুষ। সন্ধ্যার পর নন্দীরহাটের ধোপারদীঘি ও আশপাশের এলাকায় মাদকের আড্ডা বসে বলেও স্থানীয়দের দাবি।
জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথিতে। ২০১৮ সালের ৮ জুলাই বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি মামলায় ৪ হাজার ৫টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলায় মো. জুয়েল ছিলেন ৩ নম্বর আসামি। মামলার নথি অনুযায়ী, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ছিল ১২ লাখ ১০ হাজার টাকা।
৪ হাজার ইয়াবার মামলায় আসামি:
হাতে আসা মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ জুলাই বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন বালুচরা এলাকার বার আউলিয়া মুকরম মসজিদের সামনে পাকা রাস্তা থেকে ইয়াবাসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ৪ হাজার ৫টি ইয়াবা বড়ি। মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় জুয়েলসহ আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। নথিতে উল্লেখ করা হয়, ইয়াবাগুলোর মোট ওজন ছিল ৪০০ দশমিক ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ১০ হাজার টাকা। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পরবর্তীতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই মো. হাতেম আলী ভূঁইয়ার কাছে যায়। এদিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও নথিপত্রে জুয়েলের বড় ভাই মো. সোহেলের বিরুদ্ধেও মাদকসংক্রান্ত মামলার তথ্য থাকার কথা জানা গেছে।
অভিযোগের পর অভিযোগ, প্রতিকার কোথায়?
স্থানীয়দের ভাষ্য, জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ নতুন নয়। তাঁর কর্মকাণ্ড থেকে ছাত্র ও যুবসমাজকে রক্ষার দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেছেন। এসব অভিযোগের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি বলে তাঁদের দাবি। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নন্দীরহাটের ধোপারদীঘির একটি টং দোকানকে ঘিরে জুয়েলের রমরমা মাদক বেচাকেনা চলে বলে তারা দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছেন। শুধু ওই স্থান নয়, বিভিন্ন ব্যক্তি ও মাধ্যম ব্যবহার করে আশপাশের এলাকাতেও মাদকের কারবার চালানো হচ্ছে বলে তার দাবি।
সন্ধ্যার পর বাড়ে আতঙ্ক:
স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর নন্দীরহাটের কিছু এলাকায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। মাদককে কেন্দ্র করে কিশোর-তরুণদের একটি অংশ বিপথে যাচ্ছে বলেও উদ্বেগ রয়েছে। জুয়েল ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে ভয় পান; প্রতিবাদ করলে মামলা বা হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই নীরব থাকেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. জুয়েলের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ২০১৮ সালের মাদক মামলায় আসামি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে মামলাটিকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করেন তিনি। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও অস্বীকার করে জুয়েল বলেন, তিনি বিভিন্ন মাদকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে তিনি উত্তেজিত হয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সাংবাদিকদের ফোন করিয়ে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন