বিশেষ সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক যৌথ অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী, বহু মামলার আসামি ও ‘বড় সাজ্জাদ’ বাহিনীর প্রধান শুটার মুহাম্মদ মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারকসহ (৩৭) চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে লুণ্ঠিত সরকারি অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট ভোররাতে ফটিকছড়ি থানাধীন লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় এই পুলিশি অভিযান পরিচালিত হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম-এর নির্দেশনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ফটিকছড়ি থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল শাহনগর এলাকার ওয়াজ পল্লানের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কালা মোবারক ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়। পরবর্তীতে ধাওয়া করে কালা মোবারকসহ চার সন্ত্রাসীকে কাবু করে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী (মাসুদ) হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত এই কালা মোবারক। হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া ব্রাজিলের তৈরি ৯ এমএম ‘তরাস’ পিস্তলটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানা থেকে লুণ্ঠিত হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই অস্ত্র অপরাধীদের হাতে কীভাবে পৌঁছাল, তা নিয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে।
গ্রেফতারকৃত কালা মোবারক (৩৭) ফটিকছড়ির কাঞ্চনগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের মোঃ লোকমানের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের প্রধান শুটার এবং অস্ত্র পরিচালনায় অত্যন্ত পারদর্শী। ‘বড় সাজ্জাদ’ বাহিনীর হয়ে হত্যা ও চাঁদাবাজির প্রতিটি ঘটনায় সে সরাসরি অংশ নিয়ে গুলি করত।
কালা মোবারকের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যাসহ একাধিক স্পর্শকাতর ও গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
অভিযানে গ্রেফতার হওয়া কালা মোবারকের বাকি তিন সহযোগী হলেন মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০): পিতা- বদিউল আলম, সাং- শাহনগর (লেলাং ইউনিয়ন)। মোঃ ফরিদ (৫০): পিতা- মৃত আমির হোসেন, সাং- শাহনগর পল্লানপাড়া। মোঃ নাছির (৫২): পিতা- মৃত শমসু সওদাগর, সাং- শাহনগর পল্লানপাড়া।
ঘটনাস্থল থেকে ১টি ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তল (ব্রাজিলের তৈরি), ১টি ৭.৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল (ইতালির তৈরি), ১টি বিদেশি রিভলবার (পাকিস্তানের তৈরি), ১টি দেশীয় পিস্তল, ২৩ রাউন্ড বিভিন্ন মাপের তাজা গুলি (১৮ রাউন্ড ৯ এমএম ও ৫ রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম), ৩টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৭টি ব্যবহৃত গুলির খোসা (৩টি পিস্তল ও ৪টি শটগানের) পুলিশ অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো জব্দ করেছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সন্ত্রাস দমনে তাদের এই জিরো-টলারেন্স ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন