নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পেয়ারা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ বদিউল আলম (৫৫) নামে এক বৃদ্ধকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩০ আগস্ট (রবিবার) দুপুর আনুমানিক ১:০০ টার দিকে লোহাগাড়া থানাধীন চরম্বা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ওয়াহিদের পাড়ায়। অভিযুক্ত বদিউল আলম উক্ত এলাকার মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শিশু তামিমা জান্নাত মাহি (৫) বাড়ির উঠানে সমবয়সীদের সাথে খেলছিল। এ সময় প্রতিবেশী বদিউল আলম পেয়ারা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। অন্যান্য শিশুদের একটি করে পেয়ারা দিয়ে বিদায় করে দিলেও মাহিকে বেশি পেয়ারা দেওয়ার কথা বলে নিজ বসতঘরের শয়নকক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ধর্ষণ করে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর বড় ভাই শিশুটির কান্না শুনতে পেয়ে তাদের মাকে জানালে, মা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খোলার জন্য বলেন। আসামী দরজা খুললে শিশুটিকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার দেন। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে অভিযুক্ত বৃদ্ধকে আটক করে গণধোলাই দেয়।
খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেয়। অন্যদিকে, গুরুতর আহত শিশুটিকে প্রথমে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে শিশুটি চমেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর পিতা মহিম উদ্দিন বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
লোহাগাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামীকে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন